Thursday, March 3, 2016

কলেজ শিক্ষক লাঞ্চিতের ঘটনায় উত্তাল মৌলভীবাজার

বদরুল আলম চৌধুরী : মৌলভীবাজার সরকারী কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক আবু হানিফ লাঞ্চিত হওয়ার প্রতিবাদে কলেজ ক্যাম্পাস উত্তাল হয়ে উঠেছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল দশটা থেকে কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষকরা বুকে কালোব্যাজ ধারণ সহ কলেজের সকল ধরনের ক্লাস বর্জন কর্মসূচী পালন করছেন।
পাশাপাশি কলেজের ছাত্রছাত্রীরা অভিযোগক্ত দের বিরুদ্ধে দ্রুত  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে মুহুর্মুহু মিছিলে মিছিলে প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠেছে  কলেজ ক্যাম্পাস।
শিক্ষকের উপর এভাবে  হামলার ঘটনার প্রতিবাদে কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠেছে।
সকাল ১১টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহরের চৌমুহনা চত্বরে এসে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে।তারা দাবি যানায় দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার।
শহরে পরিবেশ শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কলেজ ক্যম্পাস, শহরের চৌমুহনা পয়েন্ট ও প্রেসক্লাব মোড়েসহ গুরুত্ব পূর্ণ স্থানে  অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্বাধীনতা পেয়েছি, স্বীকৃতি পাইনি

আরিফ চৌধুরী শুভঃ ‘অগ্নিঝরা মার্চ এলেই বুকের ভেতর বেজে উঠে স্বাধীনতার সুর। মুক্ত আকাশে একটা লাল সবুজ পতাকা উড়ানোর জন্য ত্রিশলক্ষ শহীদ যে জীবন দিয়েছেন তার বিজয় সত্যিকার অর্থে ধরা দেয় এই মার্চে। এ বিজয়ের স্বপ্ন দেখেছি আমরা বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চের ভাষণের পর থেকে। নারীদের উপর নির্যাতনের সীমা ছিল না। আমাদের ঘরটিও জ্বালিয়ে দিয়েছে। মাথার উপর চালের টিনে সেই আগুনের দাগ এখনো লেগে আছে। আমার গুলির অর্ডার করেছিল রাজাকার লিডার লনি চেয়ারম্যান। স্বাধীনতার পরেও তিন বছর বাড়িতে ঘুমাতে পারিনি। যেদিন খবর এলো লনি চেয়ারম্যানকে মেরে ফেলেছে নকশালরা, সেদিন থেকে বাড়িতে ঘুমাতে শুরু করেছি। আমার পায়ে যে গুলির দাগটি দেখেতেছিস তোরা, সেটি এই মার্চের ই দাগ। মৃত্যু থেকে বেঁচে আছি তোদের বাব ডাক শুনবো বলে।’ একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার জীবনের শেষ কথা এটি।

২০১২ সালের মার্চেই মুক্তযোদ্ধা বাবা এই কথাগুলো বলছিলেন আর টপটপ করে খাবার টেবিলে ঝরে পড়ছে তাঁর চোখের পানি। মা আর ভাইবোনরা খাবার টেবিলে অনেকটা নির্বাক হয়ে বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে আছি। ২০১২ সালের ২৪ ই মে এক দুঘটনায় পরাপরে চলে যান আমার গর্বিত বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ। যিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দিয়েছেন, তাঁর মৃত্যুর  পর রাষ্ট্রিয় ভাবে শেষ মর্যাদাটুকুও দেওয়া হয়নি শুধু একটা স্বীকৃতির অভাবে। হায়রে স্বীকৃতি, হায়রে স্বাধীনতা! একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সাথে এই আচরণ অত্যন্ত দুখ:জনক ও কখনই কাম্য হতে পারে না। এজন্য দু:খিত, লজ্জিত এবং অনুতপ্ত তাঁর সহযোদ্ধা ও লক্ষ্মীপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আসাম অবদুরব। তাঁদের একটাই কথা ‘তাঁকে গেজেট ভুক্ত করার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে যা দেওয়া দরকার আমরা সবই দিয়েছি।’

লক্ষ্মীপুর জেলার ১৮ নং কুশাখালী ইউনিয়নের ফরাশগঞ্জ গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ডা. মোমতাজ উদ্দিন আহমেদকে মুক্তযোদ্ধার তালিকায় গেজেট ভুক্ত করার জন্য বছর চারেক আগে একটি আবেদন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে জমা দিয়েছেন আমার মা। এখন পর্যন্ত একটা ডিজি নাম্বার ২০০৬৫ আমরা পেয়েছি। রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি ভাবে কেউ খোঁজ পর্যন্ত নেয়নি আমাদের।

২০১৪ ও ১৫ সালে বাবাকে নিয়ে বিভিন্ন টিভি ও পত্রিকায় একাধিক প্রতিবেদন হয়েছে। বীর প্রতীক তারামান বিবি আর ডা. মোমতাজ উদ্দিনকে নিয়ে গতবছর মার্চে একটি বিশেষ প্রতিবেদনও করেছে একটি বেসরকারি চ্যানেল। প্রধানমন্ত্রী বরাবর আমার মায়ের একটি খোলা চিঠিও ছাপা হয়েছে পত্রিকায়। কিন্তু কোন আশার আলো দেখছি না আমরা।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এ সরকারের উদ্যোগ কম নয়। কিন্তু আলোর নিচে অন্ধকারের মত বেঁচে থেকে আমার বাবার মত অনেকই চলে গেছেন পারাপারে। ইতিহাস থেকে হারিয়ে যাওয়ার আগেই আমার বাবার মতো সুবিধা বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট ভুক্ত করার পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে মরোণোত্ত্বর রাষ্ট্রিয় মর্যাদাসহ তাদের কবর সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছি।

প্রকৌশলী আরিফ চৌধুরী শুভ
মুক্তিযোদ্ধা. মুরহুম ডা. মোমতাজ উদ্দিনের সন্তান। ০৩.০৩.২০১৬

বইমেলা শেষ, রয়ে গেলো স্মৃতি!

আরিফ চৌধুরী শুভ (সাংবাদিক ও লেখক)   ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত ৮ টায় পর্দা নামলো ২০১৬  অমর একুশের বইমেলার। সেই সাথে স্মৃতির পাতায় যুক্ত হলো আরও একটি বইমেলার অভিজ্ঞতা। প্রতিবছরের চেয়ে এবারের মেলায় বাড়তি নিরাপত্তার পাশাপাশি ছিল অনেক ব্যতিক্রমতা। মেলার সাজ সজ্জাও ছিল অনেক আকর্ষণীয় ও বইমেলা প্রাসঙ্গিক। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দীর স্টলগুলোতেও ছিল নবীন প্রবীন লেখক ও পাঠকদের উচ্ছাসিত সমাগম।

শিশু কিশোর প্রবীণ সব বয়সী মানুষই এসেছে মেলায়। কেউ এসেছে প্রাণের টানে, কেউ আবার সখের বসে। কেউ এসেছেন হৃদয়ের শূণ্যতাকে অনুভব করতে। খালি হাতে কেউ যে ফিরে যাননি তার প্রমাণ বাংলা একাডেমির দেওয়া তথ্যে। ২০১৬ সালের বইমেলাতে প্রায় ৪১ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে । বইয়ের প্রতি বাঙ্গালীর এই অভিসার দেখে মুগ্ধ না হয়ে আর পারছি না। সেই সাথে ভাবছি সৈয়দ মুজতবা আলীর বাণীটি ‘‘বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না’’। ডিজিটাল বাঙ্গালীর জীবনে সময়ের বড়ই অভাব। আশা করি সেল্পের মাধ্যে বইগুলো ব্যক্তিত্ব প্রকাশে সারি হয়ে ঘুণে ধরার আগেই অন্তত অবসরে হলেও  পাঠাকের মাথায় জ্ঞানের সারি হয়ে থাকবে। নিজের শুভ বুদ্ধির জন্য হলেও বইয়ের পাতায় একবার করে হাত বুলাবেন পাঠক।

২০১৬ এর ফেব্রুয়ারি মাস অধিবর্ষে হওয়ায় অন্য বছরের চেয়ে মেলার একদিন বেশি পেয়েছেন পাঠক, লেখক এবং প্রকাশকরা। এরকম আরেকটি ২৯ ফেব্রুয়ারি পেতে হলে সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে আরও ৪ বছর। তাই ৪ বছরের অপেক্ষায় না থেকে পাঠক লেখক আর প্রকাশকদের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে বই মেলার প্রাঙ্গন। তবুও কোথায় যেন এক শূণ্যতা বিরাজ করছে নীরবে নিবৃত্তে। সেই শূণ্যতার সন্ধানে এই স্মৃতিচারণ।

প্রতিবছর বইমেলায় প্রথম দিন ও শেষ দিন যেতাম আমি। সুযোগ হলে মাঝে মধ্যে যাওয়া হতো বন্ধুদের ফুসলিয়ে। কিন্তু এবার প্রায় অর্ধমাসই কেটেছে মেলায়। কারও অপেক্ষায় নয়, বরং প্রাণের টানে দুইপা বাড়িয়ে ছুটে যেতাম বইমেলায়। প্রায় অর্ধশত বই কিনেছি পড়ার জন্য। ছোটবেলা থেকে বইয়ের প্রতি ক্ষুধার মত যে বদঅভ্যাস বা নেশা তৈরি হয়েছে, সেটি এ বছর বেড়ে সারাবছরের একবেলার খাবারের টাকা ফুরিয়ে দিয়েছে। এ নেশার শেষ গন্তব্য বছর খানিক আগে একটা স্থির করলাম নিজেই। পড়া বইগুলোর শেষ ঠিকানা নিশ্চিত লক্ষ্মীপুরের ফরাশগঞ্জ গ্রামের ‘আলোকিত পাঠাগার’। বইয়ের প্রতি এই গোপন অভিসারের কথা শুনে এতক্ষণে নিশ্চয় আলোকিত পাঠাগারের পাঠকরাও  রোমাঞ্চিত হয়েছেন বইমেলার নতুন বই পড়ার জন্য। কেউ চাইলে আলোকিত পাঠাগারের পাঠকের জন্য বই দিয়ে তাদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারেন।

বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে প্রতিদিনই পরিচিত অপরিচিত অনেক লেখকের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হতো। পড়ার বদঅভ্যাস থেকে লেখালেখির যে অভ্যাস নিজের অজান্তেই গড়ে উঠেছে, তাতে বই প্রকাশ করার মত দু:সাহস একবারও চিন্তা করতে পারছি না। তাই যেকোন লেখকের অটোগ্রাফসহ বই নিয়ে আমি যতটা খুশি হই, ঠিক ততটাই আমার যুক্তি, একজন লেখককে তার সৃষ্টির জন্য সন্মান দেখাতে এবং আরও উৎসাহ দিতে বই কেনার পাশাপাশি পারলে লেখকের একটি অটোগ্রাফ নিয়ে প্রত্যেকের কৃতজ্ঞতা দেখানো উচিত।

নজরুল মঞ্চের বটতলার ছায়ায় দাঁড়িয়ে থেকে উপলব্দি হতো এই মেলার প্রতিষ্ঠাতা চিত্তরঞ্জন সাহার কথা। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৮ ই ফেব্রুয়ারি চিত্তরঞ্জন সাহা মাতৃভাষার জন্য আত্মোৎসর্গকারী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মৃতি রক্ষার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বটতলায় একাই বইমেলা বসান। মাত্র ৩২ টি বই নিয়ে একটি চটের উপর বসে যে মেলার স্বপ্ন দেখেছেন চিত্তরঞ্জন সাহা, সেটি কি আজকের বইমেলা হতে পেরেছে? নাকি চিত্তরঞ্জন সাহার স্বপ্ন পূরণে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছু কাল?
গতবছর বইমেলাকে ঘিরে সবার মনে যে অনাকাঙ্কিত আতঙ্কের জন্ম নিয়েছিল সেই আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেল এবারের বইমেলা। কিন্তু ভবিষ্যতে কি আমরা সেই আতঙ্ক মুক্ত থাকবো?

জাগৃতি প্রকাশনীর কর্ণধার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর আবুল কাশেম ফজলুল হকের পুত্র প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন গত বছর অভিজিতের বই প্রকাশ করায় তাকে খুন করলো একটি উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠি। পুত্র হত্যার কথা শুনে ছুটে এসে সবার উদ্দেশ্যে ‘‘শুভ বুদ্ধির উদয় হোক’’ যে বাণী তিঁনি ছুড়ে দিয়েছেন সেটি কি সবাই ভুলে যেতে বসেছি? যদি তাই না হয় তাহলে একুশে ফেব্রুয়ারির দিনে পঞ্চগড়ের দেবিগঞ্জ উপজেলায় হিন্দু মঠের প্রধান যজ্ঞেসর রায়কে (৫০) কেন খুন হতে হবে? শহীদ মিনারে খালি পায়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে আমরা জুতা পায়ে কেন অপবিত্র করছি শহীদ মিনার? নিজেদের দাম্ভিকতা আর বাহুবলের কাছে ইতিহাস বার বার লজ্জিত হলেও আমরা কি একবারও লজ্জিত হতে পারি না?

কারো লেখা যদি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, গোত্র কিংবা রাষ্ট্রের অস্তিত্বের উপর আঘাত বা অসম্মান আনে তাহলে তাকে লেখা দিয়েই আহত করতে হবে। এই বুদ্ধি চর্চা প্রাশ্চ্যের দেশগুলোতে প্রলিত থাকলেও আমারা কেন পারি না? লেখার জবাব লেখা না হয়ে লেখার জবাব হত্যা দিয়ে হতে পারে না। এই বুদ্ধি বিদ্যা যার মনসতত্ত্বে সে সত্যিকারের দেশ প্রেমিকতো নয়, সত্যিকারের মানুষও হতে পারে না। তাই সবার মঙ্গলার্থে আবুল কাশেম ফুজলুল হক শুভ যে বাণীর সূচনা করেছেন তার জাগরণই পারে সমাজে শান্তির সুবাতাস বইতে।

আতঙ্ক ছড়িয়ে বইমেলার প্রতি মানুষের যে ভালোবাস, সেটি কখনো যে রোধ করা সম্ভব নয় তার প্রমাণ এবারের বইমেলা। ৪ মাসের সন্তান কোলে এক মাকে দেখলাম বই কিনতে এসেছেন মেলায়। ৭০ উর্ধ্বে বৃদ্ধ দাদু তার ছেলের সন্তানকে নিয়ে এসেছেন মেলায়। একটা দীর্ঘশ্বাস দিয়ে আমাকে বললেন আর বেঁচে থাকলে আসবো, না হয় এটাই আমার শেষ দেখা বইমেলা। ঘুরতে ঘুরতে অনেকটা ক্লান্ত হয়ে মেলার এককোণে ফুটপাতে বসে পড়লেন তিনি। আর তাঁর ৪ বছরের নাতি টানা হেছড়া করছেন তাকে একটি বই কেনার জন্য। কিন্তু কোন বই ই তার পছন্দ হয় না। বেকায়দায় পড়ে বৃদ্ধ লোকটি নাতিকে যতই বলেন পকেটে আর বই কেনার মত টাকা নাই, ততই নাতির চেছামেছি আরও বেড়ে যায়। বইয়ের প্রতি শিশুটির আগ্রহ দেখে ১৫০ টাকার একটি বই কিনে দিয়ে তাকে শান্ত করলাম আমি।

আবুল কাশেম ফজলুল হক জাগৃতি প্রকাশনীতে বসে দাদু নাতির এই দৃশ্যটি দেখে অনেকটা বাকরুদ্ধ হলেন। না বলা অনেক প্রশ্ন তার চোখে দেখতে পেয়েছি তখন। এই স্মৃতি তারও থাকতে পারতো। অহিংস মনোভাব যে সমাজ থেকে উঠে যায় সেই সমাজে স্মৃতি হয় মরিচিকা। মানুষের হৃদয় হয় পাথরের মত শক্ত। আর কান্না হয় শান্তি। সম্পর্ক বলতে তখন আর কিছুই থাকে না। বইয়ের শত্রু জগতের সবচেয়ে বড়  শত্রু। এই শত্রুরা কখনোই ক্ষমা পাওয়ার যোগ্যতা রাখে না। তাই শুভ বুদ্ধির উদয় যাদের মধ্যে এরই মধ্যে ঘটেছে তারাই বিচার করবে দীপনদের হত্যাকীদের।
বই লেখার জন্যে, প্রকাশ করার জন্যে যারা জীবন দিয়েছে এই পর্যন্ত, তাদের স্মৃতি বেঁচে থাকুক সবার হৃদয়ে। সবার স্মৃতি হোক শিশির ঝরা সবুজ ঘাসের উপর নিরাপদে প্রিয়জনের সাথে বই বুকে হেঁটে যাওয়ার মতো।
০১.০৩.২০১৬
ধৎরভপবহংঃধসভড়ৎফ@যড়ঃসধরষ.পড়স

নবীগঞ্জে বট গাছে একটি হাতের দৃশ্য নিয়ে তোলপাড়

বদরুল আলম চৌধুরী নবীগঞ্জ থেকে ফিরেঃ
কারো হাতে মোরগ,কারো হাতে মোমবাতি,
কারো হাতে মিষ্টি,কেউ মানত নিয়ে,কেউ এসেছে রোগ সারাতে,কেউবা বট গাছের জর,কেউ গাছের নিচের মাঠি ,আবার কেউ এসেছেন আলৌকিক হাতের দৃশ্যটি এক নজর দেখতে  এমন ঘটনা ঘটেছে হবিগঞ্জ জেলা নবীগঞ্জ উপজেলায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের এনাতাবাদ গ্রামের ফকির বাড়ি পুরনো একটি বট গাছের ভিতর হাত আকৃতি আঠাঁলো জাতীয় স্তুপ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে উপজেলা জুরে তোলপাড় চলছে।
গুজবেরকুটচাঁল আর জনতার ভীড় নিয়ে নানা কৌতুহল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় মৌলভী বা প্রবীণরা এনিয়ে নীরবতা পালন
করছেন। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমে এনিয়ে বিরুপ মন্তব্যের ঝড় উঠেছে। তবে গ্রামের অনেকেই দাবী করছেন এলাকাতে অনেক ওলি আউলিয়ার মাজার রয়েছে, এটা হয়তো তাদেরই কেরামতি। আবার এটাকে গুজব বলেও উড়িয়ে দিচ্ছেন
অনেকেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এনাতাবাদ গ্রামের ফকির বাড়ি ৩৬০ আউলিয়ার সফর সঙ্গী হযরত শিপাহসালার নাছির উদ্দিন (রহ:) অন্যতম সহযোগী হযরত শাহ চেরাগ আলীর মাজার বিদ্যমান রয়েছে। মাজারের নিকটবর্তী অরক্ষিত কবর স্থানে প্রায় শত বছরের পুরনো একটি বট গাছ রয়েছে।
গত রবিবারে জনৈক মহিলা লাকড়ি কুঁড়াতে গিয়ে গাছের ভিতর হাতের মতো একটি দৃশ্য দেখে লোকজনকে অবহিত করেন। এ খবরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ভীড় করেন। এবং ছবি তোলে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয়। মুহুর্তেই ছবিটি দেশে ও বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে বিরল দৃশ্য এবং চারদিকে বাঁশের বেষ্টনি ও মোমবাতি প্রজ্জলিত দেখা যায়। একটি তালায় ভাংতি পয়সা ছাড়াও শত শত উৎসুক জনতা উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়।
অর্ধশতাধিক লোকজন এনিয়ে একেক রকম
মন্তব্য করছেন। প্রাচীণ বটবৃক্ষ থেকে একরকম রস নির্গত হয়। যা দেখতে মুর্তিসহ
অনেক আকৃতির দেখা যায়। প্রকৃত অর্থে
এটি বটগাছের একরকম রস। এমনটাই মনে
করছেন সচেতন মহল। তবে তা মানতে
নারাজ এক শ্রেণীর মানুষ।

Wednesday, March 2, 2016

কুয়েত আঃলীগ একাংশের মতবিনিময় সভায় সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রদূত আসহাব উদ্দিনকে নিয়ে বিষদ সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ গত ২৯শে ফেব্রুয়ারি কুয়েত সিটিস্থ রাজধানী হোটেলে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কুয়েত শাখা একাংশের আয়োজনে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়েছে।
উক্ত মতবিনিময় সভায় যদিও সমসাময়িক অনেক প্রসঙ্গ'ই স্থান পেয়েছিল; তবে তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সাম্প্রতিক বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল (কুয়েত) গঠনকে কেন্দ্র করে ও কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রদূত আসহাব উদ্দিনের নানান কার্যক্রম নিয়ে বিষদ সমালোচনা।
একপর্যায়ে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদেরকে সভায় আলোচিত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ দেয়া হলে; সাংবাদিক শরিফ মোহাম্মদ মিজান, মঈন উদ্দিন সুমন, কামরুল ইসলাম, আল-আমিন রানা, শেখ নিজামুর রহমান (টিপু) ও আ,হ জুবেদ একে একে সকল সাংবাদিকবৃন্দরা মতবিনিময় সভার আয়োজকদের বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকেন।

উল্লেখ্য যে, কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রদূত আসহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তুলে বাংলাদেশে যোগাযোগ করে এব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কুয়েত শাখার (একাংশের) সভাপতি সাদেক হুসেন,আওয়ামী নেতা হারুনুর রশিদ প্রমুখ।
এদিকে সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে মতবিনিময় সভার আয়োজন আরো আগে করা হলোনা কেন, এমন এক প্রশ্ন করা হলে, জবাবে হারুনুর রশিদ বলেন, আমরা উনার নানান অনিয়ম কার্যক্রম দেখে সবসময়'ই প্রতিবাদ করে আসছিলাম;কিন্তু রাষ্ট্রদূতের রক্তচক্ষু দৃষ্টি ছাড়াও বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকির ফলে এতোদিন প্রকাশ্যে আমাদের প্রতিবাদ বাঁধাগ্রস্ত হয়েছে।
গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দরা রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণাদি উপস্থাপন করার কথা বলা হলে, আওয়ামী নেতা হারুনুর রশিদ বলেন, প্রমাণ হলো দুই লক্ষ কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে এক লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশী। তবে আমরা ঠিক সময় মতো সমস্থ প্রমাণাদি যেখানে পৌঁছানো দরকার; সেখানে পৌঁছে দেবো।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল (কুয়েত) ও সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের ব্যাপারে উপরোক্ত ও নিম্নে যেসমস্ত অভিযোগ করা হয়েছে; অভিযোগকারীরা এসংক্রান্ত কোনো ধরণের প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। 

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রদানকৃত একটি হার্ড কপি নিম্নে দেয়া হলো।        

ঝিনাইদহে আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন সেন্টারের শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন !

ষ্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ,
গতকাল বুধবার ০২ মার্চ সকালে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ব্যুরো ও পরিসংখ্যানের (বেনবেইস) উদ্যোগে নির্মিত সারা দেশের ১২৫ উপজেলায় আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন (ইউআইটিআরসিই) এর উদ্বোধন উপলক্ষে ঝিনাইদহের শৈলকূপায় ইউআইটিআরসিই সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ দিদারুল আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ঝিনাইদহ জেলার সভাপতি ঝিনাইদহ ১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুল হাই, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাকিম, উপস্থিত ছিলেন শৈলকূপা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আরিফ রেজা মন্নু, শৈলকূপা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ শামিম হোসেন মোল্লা,শৈলকূপা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মহিবুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠান টি পরিচালনা করেন শৈলকূপা পাইলট স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ মহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শৈলকূপা উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষক, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য আব্দুল হাই বলেন, বর্তমান সরকার বঙ্গ বন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য বদ্ধ পরিকর। ভিজিটার বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিল এই টি তাঁহা বাস্তায়নের একটি প্রকল্প।এখানে শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তার মাধ্যমে আমরা একটি তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর সুশৃঙ্গল শিক্ষিত জাতি আমরা উপহার পাব।          
জানা গেছে, এবার বাকেরগঞ্জ, মুলাদী, চরফ্যাশন, নলছিটি, আমতলী, বাউফল, গলাচিপা, মোরেলগঞ্জ, রায়পুরা, মনোহরদী, মোকসেদপুর, নড়িয়া হালুয়াঘাট, ইসলামপুর, নালিতাবাড়ি, কালীহাতি, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, রামু, ছাগলনাইয়া, কোম্পানীগঞ্জ, রাঙামাটি সদর, ফরিদগঞ্জ, চৌদ্দগ্রাম, বানিয়াচং, জামালগঞ্জ, দাউদকান্দি, বাজিতপুর, কালীগঞ্জ, মহেশপুর, শৈলকুপা, লোহাগড়া, গাংনী, কুমারখালী, তানোর, পুঠিয়া, গুরুদাসপুর, বাগাতিপাড়া, সুজানগর, ক্ষেতলাল, গাবতলী, শিবগঞ্জ, সাদুল্ল্যাপুর, পীরগঞ্জ, পার্বতীপুর, দেবীগঞ্জ, রাণীশংকৈল, পতœীতলাসহ দেশের ১২৫টি উপজেলায় ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। আরও ১৬০টিতে কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সবগুলো উপজেলায় আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন করা হবে।

Tuesday, March 1, 2016

সাভারের আমিনবাজারে ট্রাক ড্রাইভারকে কুপিয়ে হত্যা

জাকির সিকদারঃ  সাভারের আমিনবাজারে সাগর (২৪) এক ট্রাক ড্রাইভারকে কুপিয়ে করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ ভোর রাতে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজারের ট্রাকস্ট্যান্ডের এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ভোর রাতে কোন এক সময় অজ্ঞাত ওই ট্রাক ড্রাইভারকে কুপিয়ে হত্যা করে সঙ্গে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন লুটপাট করেছে দুর্বৃত্তরা। পরে সকালে স্থানীয়রা ট্রাকস্ট্যান্ডের একটি ট্রাকের নিচে ওই ট্রাক ড্রাইভারের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে সাভার মডেল থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।অজ্ঞাত ওই ট্র্কা ড্রাইভারের সারা শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহৃ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিষয়টি নিশিচত করে সাভার মডেল থানার ভারাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম কামরুজ্জামান