জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া : ইছাখালি থেকে চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ কিলোমিটার সড়কের উপর দিয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লইনের কারনে বেড়ে উঠতে পারছেনা হাজার হাজার নানা প্রজাতির বৃক্ষ। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট জনিত দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ কতৃপক্ষ প্রতি মাসে কিংবা সাপ্তাহে একবার করে ছেঁটে সড়কের পাশের গাছগুলোকে বেড়ে উঠতে দিচ্ছেনা। কোন কোন গাছের চারা উঠতি অবস্থায় সমুলে কেটে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে। যাতে উপরে বিদ্যুতের ছোঁয়ায় না পৌছে যায়। এহেন অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ লাইনে সৃষ্ট কৃত্রিম প্রতিকুলতা চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়কের সবুজ বৃক্ষের উপর অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়ক নির্মানের প্রথম থেকে এর র্সুক্ষা এবং সুবুজ শোভা বর্ধনে কতৃপক্ষ সড়কের দুই পাশে দেশী বিদেশী বনজ ও ফলজ বৃক্ষের চারা রোপন করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন মৌসুমে বৃক্ষ রোপন কর্মসুচীর আওতায় পরিকলিপত বনায়ন করা হয় । কিন্তু প্রয়োজনীয় রক্ষনাবেক্ষন ব্যবস্থার অভাবে অবহেলিত হয়ে পড়েছে দুই পাশের সুবুজ বনানী। প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে প্রতিনিয়ত চলছে সড়কের গাছ চুরি। সড়কের অনেক স্থানে সড়কের পাশের জায়গার বনায়ন ঘিরে জবর দখলে নেয় প্রভাবশালী লোকজন। কোথাও কোথাও অবৈধভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে বানিজ্যিক ও ব্যক্তিগত ব্যবহারিক স্থাপনা। সড়কের পাশে সুদীর্ঘ খালে জবর দখল করে নানা স্থাপনা নির্মানে বিভিন্নস্থানে স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘিœত হচ্ছে। বর্ষায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাসনে প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়ে খাল ও নালার পানি সড়কের উপড় গড়ায়। এতে বেহাল হয়ে উঠে সড়কের স্বাবাভিক যানবাহন ব্যবস্থা। সড়কের দুই পাশের জায়গার উপর অবৈধ স্থাপনা নির্মানে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মচারীদের বাঁধার তোয়াক্কা করে না জবর দখলকারীরা। অন্যায় দখল প্রতিরোধে থানা প্রশাসনের সহায়তা পাওয়া যায়না। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোন কোন অবৈধ স্থাপনা নির্মানকারীদের থানায় ডেকে নিলেও গোপন রফায় আপোষ হয়ে যায়। তাই অহরহ চলছে সড়কের পাশের জায়গার অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মানের অপতৎপরতা। অব্যাহত জবর দখলের উৎপাতের পাশাপাশি এখানে যোগ হয়েছে অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ লাইনের সমস্যা। বিদ্যুৎ লাইনকে নিরাপদ রাখতে সড়কের দুই পাশের শোভা ও ছায়াবর্ধনকারী মুল্যবান বৃক্ষ উজার করা হচ্ছে অহরহ। স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে না পেরে সড়ক শোভা ও স্থায়ীত্ব উভয়ই হারাচ্ছে। সড়কে নানা সমস্যা বিরাজ করলেও সড়ক ও জনপদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ নির্বিকার।

No comments:
Post a Comment