Thursday, March 24, 2016

রাঙ্গুনিয়া চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউপি নির্বাচন সহিংসতা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি : মঙ্গলবার (২২ মার্চ) সকাল  ১১ টা ৫ মিনিট ভোট
কেন্দ্র ৯ নম্বর ওয়ার্ড বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় । কেন্দ্রের বাইরে
মহিলা ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। মহিলা বুথের  ৩ নং কক্ষে গিয়ে সব প্রার্থীর
এজেন্ট আছে কিনা জিজ্ঞেস করলে করিমুন্নেছা নামে এক এজেন্ট উচ্চস্বরে
বলে এখানে সবাই নৌকার এজেন্ট। জয়নাব বেগম নামে অন্য এজেন্ট ধানের শীষের
দাবি করলেও তার এজেন্ট কার্ডে কোনো কিছু লেখা ছিলনা। ৩ চেয়ারম্যান
প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের কোনো এজেন্ট চোখে
পড়েনি। এসময় কক্ষের সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার পরিমল কান্তি সাহা
জানান, ৩৭৮ ভোটের মধ্যে ভোট গ্রহন হয় ১০১টি। ১১ টা ৩৪ মিনিট ৮ নং
ওয়ার্ড তৈয়্যবিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা কেন্দ্রের ৩ নং পুরুষ কক্ষে গিয়ে দেখা যায়
চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যালটের বেশির ভাগ পাতায় সিল মারা। দায়িত্বে থাকায়
সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার মো. ইলিয়াছ তার কোনো উত্তর দিতে পারিনি।
এসময় নৌকা প্রতীকের এজেন্ট মো. লোকমান সাংবাদিকদের কৌশলে সরিয়ে
দেন। ১২ টা ২ মিনিট ৬ নং ওয়ার্ড ইউনুছিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের ২ নং বুথে
গিয়ে যায় চেয়ারম্যান পদের ব্যালট ছাড়া ২টি পদের ব্যালট দেয়া হচ্ছে। জানতে
চাইলে সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার মো. নুুরুল হামিদ কোনো জবাব দিতে
পারেনি। এ কক্ষ থেকে ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসা ভোটার মো. ইলিয়াছ (ভোটার নং
- ৫৭০) ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘ ১৩ বছর পর ভোট দিতে এসেও চেয়ারম্যান
পদের ভোট দিতে পারিনি। তবে তিনি ইউপি সদস্য পদের ২টি ভোট দিতে
পেরেছেন বলে জানান। চট্টগ্রামে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী
ইউনিয়নে ১০ টি ভোট কেন্দ্রে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে। সকাল ৯ টা ৪
পর্যন্ত একটানা ভোটে কোনো সহিংসতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে
দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে ৫ নং ওয়ার্ডের সুফি পাড়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা
কেন্দ্রে সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার অলক বড়–য়াকে প্রত্যাহার করা হয়েছে
বলে জানান রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল আলম। দীর্ঘ
১৩ বছর পর এ ইউনিয়নে ৪ প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচন লড়াইয়ে ছিলেন নৌকা
প্রতীকে ইদ্রিছ আজগর, ধানের শীষের প্রার্থী মজিবুল হক স্বতন্ত্র প্রার্থী
জাহাঙ্গীর আলমের প্রতীক আনারস ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রতীক ছিল
ঘোড়া। পরে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকার অজুহাতে তিনি নির্বাচন
থেকে সরে দাড়ান। বিএনপির প্রার্থী মজিবুল হক নির্বাচন কারচুপি হয়েছে
অভিযোগ করলে ও আওয়ামী লীগের প্রাথী ইদ্রিছ আজগর নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও
শান্তিপূর্ন হয়েছে বলে দাবি করেন।

চন্দ্রঘোনা আধুরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতবর্ষী আসমা খাতুন(১০২)
ভোট দিতে এসে জানান, দীর্ঘ ১৩ বছর পর ভোট দিতে এসে নিজেকে খুব উৎপুল
মনে হচ্ছে। ভোট দেওয়ার পরিবেশ দেখে তিনি সন্তুষ্ঠি প্রকাশ করেন। ১০টি কেন্দ্রে
ইউপি মেম্বার প্রার্থী ও সমর্থকদের মাঝে বিচ্ছিন্ন কিছু সংঘর্ষ ছাড়া
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে ১০ টি কেন্দ্রের
৯ টি ওয়ার্ডে  মোট ভোটার ১৯,৪৭৭ জন। নির্বাচনে ৭০শতাংশ ভোট সংগ্রহ
হয়েছে মাঠ পর্যায়ে সামগ্রিক পরিদর্শনে দেখা যায়।

উপজেলা রিটানিং কর্মকর্তা কামরুল আলম জানান, প্রশাসনের সার্বিক
নিরাপত্তা ছাদরে ঢাকা ছিল পুরো ইউনিয়নের নির্বাচনের পরিবেশ। কোথাও কোন
অপ্রিতিকর ঘটনা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।

No comments:

Post a Comment