ঢাকায় আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়া কাপের ফাইনালের টিকেট নিয়ে দু’দফায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে টিকেট প্রত্যাশীদের।
ঢাকার মিরপুরে টিকেট প্রদানকারী একটি বেসরকারী ব্যাংকের শাখার সামনে প্রথমে সকালে এবং পরবর্তীতে বিকেলে আরেক দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ব্যাংক থেকে টিকেট দেয়া বন্ধ হয়ে গেলেও অনেকে এখনো হন্যে হয়ে ঘুরছেন টিকেটের জন্য।
শুধু ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন জেলা থেকে এশিয়া কাপের ফাইনালের টিকেটের জন্য গতরাত থেকেই মিরপুরে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্রাঞ্চের সামনে ভীড় জমান টিকেটপ্রত্যাশীরা।
তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর বেলা ১২ টার দিকে টিকেট বিক্রি শুরু হবার আগেই হঠাৎ করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে টিকেটপ্রত্যাশীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে।
সেখানে টিকেট কেনার জন্য উপস্থিত ছিলেন এমন একজন মনসুর আহমেদ বলেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেখান থেকে তাকে পালিয়ে যেতে হয়।
“কি হইলো বুঝতেই পারলাম না। যে যেভাবে পারি বাইচা চইলা আসলাম। এখন কোনভাবেই টিকেট পাচ্ছি না। শেষপর্যন্ত ব্ল্যাকেও দেখলাম কেউ যদি বেশি দিয়া বিক্রি করে, কিন্তু কোনভাবেই পাচ্ছি না।”
বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠায় খেলার টিকেটের চাহিদাও বেড়ে গেছে বহুগুণে।
এবার এশিয়া কাপের টিকেট সরাসরি বিক্রি হচ্ছে বেসরকারী ব্যাংক ইউসিবির মিরপুরের একটি শাখা এবং ব্যাংকটির মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ইউক্যাশের মাধ্যমে।
মি. আহমেদ বলছেন, এর আগের ম্যাচে ব্যাংক থেকে টিকেট কিনতে পারলেও এই ম্যাচের টিকেট কিছুতেই পাচ্ছেন না। তার মতো অনেকেই হন্যে হয়ে ঘুরছেন টিকেটের জন্য।
সকালবেলা একদফা সংঘর্ষের পর টিকেট বিক্রি বন্ধ করে দেয়া হলেও বিকেলে টিকেট বিক্রি শুরু হয়। তবে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে টিকেট শেষ হয়ে যাবার পর আবার লাইনে দাড়ানো মানুষদের মধ্যে আবারো উত্তেজনা তৈরি হয়।
“সাড়ে তিনটার দিকে তারা আবার টিকেট বিক্রি শুরু করেন। কিন্তু যতগুলো তারা দিতে পেরেছেন, তার থেকে টিকেট প্রত্যাশী লোকজন ছিল অনেক বেশি।” বলেন মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভূঁইয়া মাহবুব হোসেন।
তিনি বলেন, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সকাল থেকেই তাদের ব্যস্ত থাকতে হয়।
ঢাকার শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের আসনসংখ্যা প্রায় ২৬,০০০। আর এই আসনের একটি বড় অংশ আবার চলে যায় স্পন্সর , বিসিবিসহ বিভিন্ন সৌজন্য টিকেটের মাধ্যমে।
কত শতাংশ টিকেট শেষপর্যন্ত সাধারণ দর্শকদের হাতে পৌছিয়েছে সেটি জানতে বিসিবির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
ব্যাংক শেষপর্যন্ত কতটি টিকেট বিক্রি করেছে সেটি জানতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোন উত্তর দেননি।
তবে পুলিশ বলছে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে যে তাদের হাতে থাকা টিকেট শেষ হয়ে গিয়েছে। ফাইনাল ম্যাচের আর কোন টিকেট তারা বিক্রি করছে না।

No comments:
Post a Comment