Wednesday, March 23, 2016

প্রধান বিচারকের ঘুষনীতি(The bribe policy of chief judge) |সিরাজী এম আর মোস্তাক

সিরাজী এম আর মোস্তাক: মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয়ের প্রতিটি কথা বা বাক্যই নীতি হিসেবে মানা হয়। ২০ মার্চ, ২০১৬ ইং তারিখে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানিকালে তাদের আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, “প্রধান বিচারপতিকে এক হাজার কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে কিনতে পারেন, কিন্তু অন্য চার বিচারপতিকে কিনতে পারবেন না। প্রধান বিচারপতি একা কোনো রায় দেন না।”  (দৈনিক প্রথম আলো, ২১ মার্চ, ২০১৬, পৃষ্ঠা-৪, কলাম-৫)।
এ বাক্যে মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয় সুস্পষ্টভাবে একটি ঘুষনীতি পেশ করেছেন। তিনি স্বীয় ঘুষের পরিমান এক হাজার কোটি টাকা উল্লেখ করেছেন। তবে যেহেতু তিনি একা কোনো রায় দেন না, তাই তিনি উক্ত ঘুষ গ্রহণে অপারগতাও প্রকাশ করেছেন। চারজন বিচারপতির উপস্থিতিকে তিনি ঘুষ গ্রহণে বাধা মনে করেছেন। প্রধান বিচারপতির এ ঘোষণায় দেশের অন্যান্য আদালতের বিচারপতিদের ঘুষ গ্রহণের পথ পরিস্কার হয়েছে। তারা একাই তদীয় আদালতের সকল মামলা পরিচালনা করে থাকেন। তাদের সাথে সমকক্ষ বিচারপতিদের উপস্থিতি থাকেনা। তাই তারা ইচ্ছা করলে প্রধান বিচারপতির ঘুষনীতি গ্রহণ করতে পারেন। খোদ প্রধান বিচারপতি এক হাজার কোটি টাকায় বিক্রী হলে, অন্যদের ক্ষেত্রে পরিমাণে কম-বেশী ঘুষ গ্রহণে বাধা থাকার কথা নয়।
এর আগে মাননীয় প্রধান বিচারপতি এজলাসে বসে আসামী পক্ষের আইনজীবীদের সামনে সরকার পক্ষের আইনজীবী তথা এটর্নি জেনারেল ও তার সহকারীদের বকাঝকা করেছিলেন। অভিযুক্ত আসামীর বিরূদ্ধে উপস্থাপিত ডকুমেন্ট সমূহ একজন উকিলের মতো নিজেই সংশোধন করেছিলেন, যাতে চুড়ান্ত শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। সেদিন প্রধান বিচারপতির এমন অযাচিত ওকালতি বা বকাঝকার বিষয়টি এটর্নি জেনারেলের সম্মানে লেগেছিল। এ নিয়ে তাদের মাঝে কথা কাটাকাটিও হয়েছিল। তখন আসামী পক্ষের আইনজীবীগণ একেবারে অথর্ব হয়ে পড়েছিল। তাদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। তারা সেদিন অসহায়ের মতো কাঁদতে কাঁদতে আদালত প্রাঙ্গন ত্যাগ করেছিল।
বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছিল। সচেতন নাগরিক হিসেবে মন্ত্রীদ্বয় তার সমালোচনা করেছিলেন। এখন তারা অন্যায় প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। তাদের বিরূদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে। উক্ত অভিযোগের শুনানিতে মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয় সার্বিক বিষয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি আরো বলেন, “আমরা জানি বাংলাদেশে কারা মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের রং আমরা জানি, কার কী ভূমিকা ছিল। যদি আমি ওই মামলা থেকে নিজেকে তুলে নিতাম, তাহলে দেশে রায়ট লেগে যেত। পুরো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল হয়ে যেত।” (তদুক্ত, দৈনিক)।
অর্থাৎ মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয় অযাচিতভাবে সরকারের পক্ষে ওকালতি করে বা এটর্নি জেনারেলকে বকা দিয়ে হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার টিকে রেখেছেন। সরকারের ইচ্ছেমতো রায় দিয়েছেন এবং একইভাবে রায়ের ফলে দেশে সম্ভাব্য রায়টও প্রতিহত করেছেন। তার এ কাজের ঘুষ কোনোমতেই এক হাজার কোটি টাকার কম হবার নয়।
উল্লেখিত ঘুষনীতি ও অবৈধ ওকালতির জন্য এতোক্ষণে মাননীয় প্রধান বিচারকের অপসারণ শুধু নয়, সাজাও হয়ে যেতো; যদি বাংলাদেশে স্বাধীন গণতন্ত্র থাকতো।
মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয় তার বক্তব্যে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে সম্যক অবগতির কথাও বলেছেন। তাই লেখক জানতে চেয়েছেন- বাংলাদেশে প্রচলিত মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রায় দুই লাখ যোদ্ধা ও একচল্লিশ বীরাঙ্গনার যে তালিকা রয়েছে, তাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা ও ত্রিশ লাখ শহীদের নাম নেই কেন? ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুই লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনের বিপরীতে মুক্তিযোদ্ধা সংখ্যা এতো কম কেন? উক্ত দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধাই কি দেশ স্বাধীন করেছিলেন? বঙ্গবন্ধু ও অন্যরা কি তাহলে রাজাকার ছিলেন? বাংলাদেশে প্রচলিত বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা কোটানীতি আর কতোদিন চলবে?
এ প্রশ্নগুলোর সঠিক সমাধান করলে, দেশের শিক্ষিত যুবসমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে অবশ্যই তার কাঙ্খিত ঘুষের চেয়ে আরো বেশি দেবে।

No comments:

Post a Comment